গনহত্যা মামলার আসামী নিয়ে দল গোছাচ্ছে স্বরুপকাঠী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আল বেরুনী সৈকত

আব্দুল বাশিরঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর নির্দেশ -গনহত্যার সাথে জড়িতদের দলে আশ্রয় দেয়া হবে না। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানছেন না পিরোজপুর জেলার নেসারাবাদ (স্বরুপকাঠী) উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আল বেরুনী সৈকত। তিন ভাগে বিভক্ত স্বরুপকাঠী বিএনপির একটি অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। উপজেলা বিএনপির একটি বৃহৎ অংশের নেতৃত্বে রয়েছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ এবং অন্য অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ ফখরুল আলম। জনসমর্থন এবং নেতা কর্মীদের প্রচন্ড আকাল চলছে আল বেরুনী সৈকতের নেতৃত্বাধীন অংশে। তাই তিনি আওয়ামী লীগ সহ, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারী, ছিচকে চাঁদাবাজ, একাধিক মামলার আসামিদের নিয়ে দল গোছানোর চেষ্টা করছে। তারই প্রমান হিসাবে জুলাই -আগস্টে গনহত্যার সাথে জড়িতসহ একাধিক মামলার আসামিকে তার ছবির সাথে জুড়ে দিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করতেও দেখা গেছে। আল বেরুনী সৈকতের ছবির নিচে যুবদল পরিচয় দানকারী ঐ যুবকের নাম সোহেল শিকদার। সে জুলাই- আগস্টে ঢাকার আশুলিয়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় নারকীয় ছাত্র জনতা হত্যা ও লাশ পোড়ানো সহ একাধিক মামলার আসামি। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আরো একাধিক অপরাধের জড়িত থাকার প্রমান রয়েছে বলে তথ্য সূত্রে জানা যায়। ঐ সকল অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। তার বিরুদ্ধে পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানায়ও একটি হত্যা প্রচেষ্টা মামলা রয়েছে। স্বরুপকাঠীর সারেংকাঠী গ্রামের মৃত মোবারক শিকদারের পুত্র উক্ত সোহেল শিকদার। ০৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ে সে ছিল আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাথে সে জুলাই -আগস্ট হত্যাকান্ডে অংশ গ্রহন করে বলে মামলা সূত্রে জানা যায়। তার রয়েছে একটা সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। আর এই গ্রুপকে ফোকাস করেই সে আল বেরুনী সৈকতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। আর সৈকতও তার নেতৃত্বাধীন অংশের শোচনীয় অবস্থা থেকে উত্তরনের হাতিয়ার হিসেবে ঐ সন্ত্রাসী গ্রুপটিকে দলে আশ্রয় দিয়েছে। সে ঐ সকল মামলা থেকে নিষ্কৃতি পাইয়ে দিবে বলে সোহেল এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে। স্বরুপকাঠী বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে সদস্য সচিব আল বেরুনী সৈকত এখন আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কেন্দ্র। যার পরিচয় যাহাই হোক না কেন তার কাছে গেলেই সহজেই বিএনপির তকমা লাগলো যায়। স্বরুপকাঠী ছাত্র লীগের এক সাবেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান জানান সৈকত তাকে কিছু লোকজন দিয়ে দল গুছিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছে। এ বিষয়ে বিএনপির একটি অংশের এক নেতা মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, স্থানীয় রাজনীতিতে সে কতখানি দেউলিয়া তা আওয়ামী লীগের নিকট থেকে সাহায্য চাওয়া থেকেই বোঝা যায়। স্বরুপকাঠী বিএনপির অন্য এক নেতা জানান, বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত স্বরুপকাঠীতে আল বেরুনী সৈকতের কারণে দলের ইমেজ হারাতে বসেছে। তার মত আনাড়ি লোক দিয়ে রাজনীতি হয় না।