দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পথে ঐক্যের ডাক

নবজাগরণ রিপোর্ট:
টাঙ্গাইলে আয়োজিত‘গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন’শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না;এটি ছিল বর্তমান সময়ের সাংবাদিকতার জন্য একটি প্রয়োজনীয় আত্মসমালোচনার সুযোগ। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ প্রবাহ এবং প্রতিযোগিতামূলক সংবাদ পরিবেশনের চাপে সাংবাদিকতার নৈতিক মান আজ নানা প্রশ্নের মুখে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের এ উদ্যোগ সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম সাংবাদিকদের ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছেন,তা গভীরভাবে ভাবনার দাবি রাখে। বিভাজন সাংবাদিক সমাজকে দুর্বল করে,পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের আস্থাকে নড়বড়ে করে দেয়। একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গড়ে তুলতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা,পেশাগত সংহতি ও নৈতিক দৃঢ়তা অপরিহার্য।

সাংবাদিকতা যে একটি স্বাধীন পেশা-এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা মানেই দায়িত্বহীনতা নয়;বরং স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত থাকে আরও বেশি দায়বদ্ধতা।সত্য যাচাই,তথ্যের ভারসাম্য ও বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপন-এসবই সাংবাদিকতার মৌলিক ভিত্তি,যা কোনো অবস্থাতেই আপসযোগ্য নয়।আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কর্মশালায় যে আলোচনা হয়েছে,তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নির্বাচনকালীন সময়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। একটি ভুল বা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাই প্রেস

কাউন্সিল প্রণীত আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়,এটি পেশাগত নৈতিকতারও অংশ।
কর্মশালায় প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট-১৯৭৪,সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি-১৯৯৩ (সংশোধিত),তথ্য অধিকার আইন-২০০৯,সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৪ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ বিষয়ে যে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়েছে,তা সাংবাদিকদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। আইন জানা মানে কেবল আত্মরক্ষা নয়;আইন জানা মানে দায়িত্বশীলভাবে সত্য প্রকাশের শক্তি অর্জন করা।

টাঙ্গাইলের এই কর্মশালা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার নয়; এটি সমাজের আয়না,রাষ্ট্রের বিবেক। অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে কেবল কর্মশালায় অংশগ্রহণই যথেষ্ট নয়,প্রয়োজন প্রতিদিনের চর্চায় নৈতিকতার প্রতিফলন।

নবজাগরণ মনে করে,দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও পেশাগত ঐক্যই পারে গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে। টাঙ্গাইলের এই উদ্যোগ যদি সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে,তবে তা গণমাধ্যমের জন্য এক নতুন আশার দিগন্ত উন্মোচন করবে-যেখানে সত্য থাকবে অগ্রাধিকার,আর সাংবাদিকতা হবে জনস্বার্থের নির্ভীক কণ্ঠস্বর।