রাজনৈতিক দল নয়,রাষ্ট্রই মুখ্য: মাহমুদুর রহমানের উচ্চারণ কেন সময়ের দাবি

মাহমুদুর রহমান যখন বলেন-“রাজনৈতিক দলগুলোকে এত পাত্তা দেওয়ার কিছু নেই”,তখন তিনি কোনো ক্ষণস্থায়ী মন্তব্য করেন না;বরং তিনি উচ্চারণ করেন বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক অসুখের একটি নির্মম সত্য।বাংলাদেশে গত পাঁচ দশক ধরে রাজনীতি মানেই দল,দল মানেই ক্ষমতা,আর ক্ষমতা মানেই রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গীন দখল। এই কাঠামোর ভেতরেই জন্ম নিয়েছে লুটপাট,গুম,খুন,নির্বাচন-তামাশা,মিডিয়া দমন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি। মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য সেই দলতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগপত্র।

দল এসেছে,দেশ গেছে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়-যখনই রাজনৈতিক দলগুলো“রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে” উঠে গেছে,তখনই বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।১৯৯৬+২০০১:ক্ষমতার পালাবদল, কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কার শূন্য ২০০৯-২০২৪: একদলীয় আধিপত্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস নির্বাচন হয়েছে,কিন্তু জনগণ অনুপস্থিত সংসদ আছে,কিন্তু প্রতিনিধিত্ব নেই এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে মাহমুদুর রহমান মূলত বলছেন-রাষ্ট্র বাঁচাতে হলে দলকে কেন্দ্র থেকে সরাতে হবে।রাজনীতির মালিক জনগণ, দল নয়-বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো আর জনগণের প্রতিনিধি নেই-তারা এখন পৃষ্ঠপোষকতা ভিত্তিক কর্পোরেট -ক্ষমতা কাঠামো।মনোনয়ন বিক্রি হয়, আদর্শ ভাড়া যায়,কর্মী হয় ব্যবহার্য পণ্য।মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য তাই বিপজ্জনক-কারণ এটি প্রশ্ন তোলে:দল যদি ব্যর্থ হয়,রাষ্ট্র কেন জিম্মি থাকবে?

দলীয় স্বার্থের নামে বিচার,প্রশাসন,সেনাবাহিনী,গণমাধ্যম কেন ধ্বংস হবে?জনগণের বিপ্লব কি দলীয় অনুমতির অপেক্ষায় থাকবে?জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে এই বক্তব্যের যোগ ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানে যারা রাস্তায় নেমেছিল-তারা কোনো দলের ডাকে নামেনি।তারা নেমেছিল রাষ্ট্র বাঁচাতে।সেই জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত আজও প্রশ্ন করে-দল না দেশ?ক্ষমতা না সংবিধান?নেতা না ন্যায়বিচার?মাহমুদুর রহমান সেই প্রশ্নটিই সাহস করে উচ্চারণ করেছেন-যা বহু বুদ্ধিজীবী এখনো ফিসফিস করে বলেন।

কথাটা কঠিন,কিন্তু জরুরি এই বক্তব্য অনেক দলের জন্য অস্বস্তিকর হবে-কেউ বলবে‘অরাজনৈতিক,কেউ বলবে ‘চরমপন্থা’।কিন্তু সত্য হলো-বাংলাদেশ এখন আর দলতন্ত্র বহন করার অবস্থায় নেই।রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে হলে;সংবিধান কার্যকর করতে হলে,বিচার ফিরিয়ে আনতে হলে-রাজনৈতিক দলকে নয়,জনগণকে কেন্দ্রে রাখতে হবে।মাহমুদুর রহমান সেই সাহসী কথাটাই বলেছেন।এটাই আজকের বাংলাদেশের সবচেয়ে বিপ্লবী উচ্চারণ।

মো: আবু তাহের পাটোয়ারী
সম্পাদক, নবজাগরণ
জুলাই যোদ্ধা -আহত সাংবাদিক