বীরমুক্তিযোদ্ধা এ বি ছিদ্দিক স্যার: এক যুগের অবসান,এক আদর্শের অমরতা

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
একটি জাতির ইতিহাস গঠিত হয় কিছু আলোকিত মানুষের ত্যাগ, সাহস ও নিষ্ঠার ওপর। তেমনই এক আলোকিত মানুষ, বীরমুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাগুরু ও সমাজনেতা জনাব এ বি ছিদ্দিক স্যার-এর ইন্তেকালে আজ শোকস্তব্ধ সেনবাগ উপজেলা তথা সমগ্র দেশ। আজ ভোর ৬ ঘটিকায় তিনি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে মহান স্রষ্টার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তাঁর বিদায়ে শুধু একটি পরিবারের নয়-একটি জনপদের, একটি প্রজন্মের এবং একটি আদর্শের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।গাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি কয়েক দশক ধরে শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। শিক্ষা তাঁর কাছে ছিল কেবল পাঠ্যপুস্তক কেন্দ্রিক নয়; বরং নৈতিকতা,দেশপ্রেম ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ মানুষ গড়ার এক মহৎ প্রক্রিয়া। তাঁর হাত ধরেই অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করে চলেছেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ বি ছিদ্দিক স্যারের অবদান ছিল গৌরবোজ্জ্বল। দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে তিনি যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন,তা ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে তিনি আজীবন ধারণ করেছেন-শিক্ষা,রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি স্তরে।রাজনৈতিক জীবনেও তিনি ছিলেন আপসহীন, নীতিবান ও জনবান্ধব নেতা। সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার চেয়ে মানুষের অধিকার ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি ছিলেন সকলের শ্রদ্ধাভাজন।

আজ জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম-এর নেতৃত্বে বীরমুক্তিযোদ্ধা এ বি ছিদ্দিক স্যারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানানো হয়। গার্ড অব অনার, জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরদেহ ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে এই সম্মান প্রদর্শন প্রমাণ করে-জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ভুলে যায় না।শিক্ষক,শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী,সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা ও বিদায় মুহূর্ত পরিণত হয় এক আবেগঘন জাতীয় শ্রদ্ধানিবেদনে। এটি স্পষ্ট করে দেয়-এ বি ছিদ্দিক স্যার কেবল একটি নাম নন,তিনি একটি আদর্শ,একটি প্রেরণা।

নবজাগরণ-এর পক্ষ থেকে আমরা এই মহান মানুষটির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন এবং শোকাহত পরিবার-পরিজন ও গুণগ্রাহী সকলকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দেন-এই প্রার্থনাই রইল।
একজন বীরের প্রস্থান মানেই শূন্যতা,কিন্তু তাঁর কর্ম,আদর্শ ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের কাছে পথনির্দেশ হয়ে থাকবে। জাতি যতদিন স্বাধীনতার ইতিহাস স্মরণ করবে,ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে-বীরমুক্তিযোদ্ধা এ বি ছিদ্দিক স্যারের নাম।বীরেরা কখনো মৃত্যুবরণ করেন না-তাঁরা ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকেন।

মো:আবু তাহের পাটোয়ারী
সম্পাদক: নবজাগরণ
অনলাইনে পড়ুন:www.thenabajagaran.com