রাজনৈতিক প্রতিবেদন-নোয়াখালী ব্যুরো:
নোয়াখালী-২(সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘাঁটি। কিন্তু গত এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজপথের আন্দোলন,মামলা-হামলা,অনিশ্চয়তা,সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বের অভাবে এই আসনে বিএনপির রাজনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই ক্ষত পেরিয়ে দলের তৃণমূল এখন নতুন শক্তিতে জেগে উঠছে। আর সেই জাগরণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি জোরালো দাবি-এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হোক এবং ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হোক আলহাজ্ব কাজী মো: মফিজুর রহমানকে।
জনগণের এই দাবি এখন আর গুঞ্জন নয়-এটি এখন উচ্চকণ্ঠ,সুস্পষ্ট ও সংগঠিত জনমতের দাবি,যা উপেক্ষা করা মানে আসন্ন নির্বাচনে সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আসনটি অপূরণীয় ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়া।
কেন এই আসনে প্রার্থী পরিবর্তন এখন রাজনৈতিক বাস্তবতা?সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আসনের বাস্তবতা খুবই কঠিন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় প্রশাসনিক চাপ, এবং দীর্ঘদিনের সংগঠনহীনতা বিএনপিকে এখানে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এমন অবস্থায় প্রার্থী যদি মাঠের মানুষ না হন, যদি নিয়মিত এলাকায় না থাকেন, যদি সংগঠনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ না থাকে-তবে বিজয় প্রায় অসম্ভব।গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত বা সম্ভাব্য প্রার্থী লিখিতভাবে বা মৌখিকভাবে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেকেই মাঠে উপস্থিত ছিলেন না। নেতাকর্মীরা বারবার বলছেন,“মাঠে যিনি নেই, তিনি লড়াই কীভাবে করবেন? ভোটের দিন ব্যালটের সামনে দাঁড়াবে কে?”
এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র।এই শূন্যতার জায়গায় উঠে এসেছে কাজী মো: মফিজুর রহমান-যিনি শুধু মাঠে আছেন তাই নয়, বছরের পর বছর দলীয় কর্মকাণ্ড, দুঃসময়ের সংগঠন, এবং মামলার চাপে আহত নেতাকর্মীর পাশে থেকেছেন।এটাই তাঁকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে,আর এটিই প্রার্থী পরিবর্তনের ভিত্তিমূল।
মফিজুর রহমান:মাঠের মানুষ,পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতীক আলহাজ্ব কাজী মো:মফিজুর রহমান হঠাৎ করে আলোচনায় আসা কোনো নাম নয়।তিনি-দুই উপজেলা জুড়ে বহু বছর ধরে সংগঠনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত,ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও কেন্দ্র পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ব্যাক্তিগতভাবে চেনেন,আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে বারবার গ্রেফতার এবং হয়রানির মুখে পড়া কর্মীদের পাশে থেকেছেন,ব্যক্তিগত আক্রমণ, ভয়ভীতি বা লোভে কখনো নত হননি,নিজেকে একজন পরিচ্ছন্ন, দাগমুক্ত,সৎ রাজনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
একজন সিনিয়র নেতা বললেন,“আমরা এমন কাউকে চাই যিনি জনগণের বাড়িতে কড়া নেড়ে ভোট চাইতে পারবেন। নেতা যার নাম বললে মানুষ সাড়া দেয়। কাজী মফিজুর রহমান সেই মানুষ।”জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতার ভাষায়-“দলের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে হলে এই আসনে পরিবর্তন ছাড়া কোনো উপায় নেই। আর সেই পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নাম হচ্ছে কাজী মফিজুর রহমান।”
ইউনিয়ন পর্যায়ে তীব্র জনমত-৪, ৫, ৬ নম্বর ইউনিয়নে কর্মীদের ঢল সাম্প্রতিক সময়ের নানা ইউনিয়নভিত্তিক নেতা-কর্মী সমাবেশে দেখা গেছে,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দল,ছাত্রদল,শ্রমিক দল,কৃষক দল সহ অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী এক কণ্ঠে দাবি তুলেছেন-ধানের শীষে মফিজুর রহমানকে চাই।এমনকি সাধারণ গ্রামবাসীর মধ্যেও এই দাবি ব্যাপক:একজন কৃষক বলেন,“বিনা
কারণে মার খাইছি,মামলার হয়রানি সহ্য করছি।যারা পাশে ছিল, তারাই আমাদের নেতা। কাজী মফিজুর রহমান আমাদের খুঁজে খুঁজে পাশে থেকেছে।”একজন কলেজছাত্রের অভিমত-“সোনাইমুড়ীতে তরুণ ভোটার বিশাল।আমরা কাজী ভাইকে চাই কারণ তিনি তরুণদের সঙ্গে কাজ করেন।”এই তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করছে-তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিএনপি আবারো এই আসনে শক্ত অবস্থান নিতে পারবে।
জাহির হচ্ছে মাঠের বাস্তবতা-নেতাকর্মীদের দাবি:“প্রার্থী ঘোষণা এখন সময়ের দাবি”সাম্প্রতিক সমাবেশে বিএনপির এক ইউনিয়ন সভাপতি বক্তৃতায় বলেন,“দল যদি জনগণের কথা শোনে, তাহলে প্রার্থী ঘোষণায় ভুল করার সুযোগ নেই। ভুল করলে চলমান গণজোয়ার ভেঙে পড়বে।”একজন ওয়ার্ড নেতা বলেন,“ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা,মাঠের অভিজ্ঞতা, আর সংগঠনের আস্থা-এই তিনটা যোগফল মফিজুর রহমান। এ ছাড়া অন্য কাউকে দিলে আমাদের পক্ষে মানুষকে রাজি করানো অসম্ভব।”
এমন উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য প্রমাণ করে-দলের কর্মীরা একটি শক্তিশালী,বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব চায়।এই নেতৃত্ব তাঁরা মনে-প্রাণে গ্রহণ করেছে। ঐতিহাসিক সুযোগ: সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আবারো ধানের শীষের ঘাঁটি হতে পারে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন-বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আসনে একটি বড় ধরনের ভোটবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কারণ:সরকারবিরোধী জনরোষ এখানে তীব্র,তরুণ ভোটারদের বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে,স্থানীয়দের অভিযোগ-উন্নয়ন হয়েছে নির্বাচনী প্রচারপত্রে, বাস্তবে নয়,দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হয়রানিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ,আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বেড়েছে,বিএনপির সংগঠন মাঠে আবারো শক্তিশালী হচ্ছে।এই বাস্তবতায় একজন শক্ত জেনুইন প্রার্থী এলে বিএনপির পক্ষে পরিস্থিতি ঘুরে যেতে পারে।আর স্থানীয়দের মতে সেই প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান।
পূর্বের ভুল পুনরাবৃত্তি হলে আসন হারানোর ঝুঁকি
পূর্বের নির্বাচনে দেখা গেছে-এলাকার সাথে সম্পর্ক নেই এমন প্রার্থী দিলে-ভোটাররা উৎসাহ হারায়,নেতাকর্মীরা মাঠে ঠিকভাবে নামেন না,সামান্য চাপে অস্তিত্ব সংকট হয়,
ভোটের দিন ভোটার টানাই কঠিন হয়ে পড়ে।নোয়াখালী-২ আসনটি বহু সময়েই এমন সংকটের শিকার হয়েছে।সেই অভিজ্ঞতা আজও নেতাকর্মীদের কষ্ট দেয়।তাই এবার তারা পরিষ্কারভাবে জোরালো দাবি তুলেছেন-জনপ্রিয়ও পরিচ্ছন্ন মাঠের নেতা ছাড়া আর কাউকে নয়।
বিএনপি নেতৃত্বের কাছে বার্তা:“ভুল প্রার্থী দিলে পুরো আন্দোলন ব্যাহত হবে”তৃণমূলের বার্তাটি এখন খুবই সরল ও স্পষ্ট: “যে লড়বে, তাকে মনোনয়ন দিন। যিনি মাঠে নেই, তাঁর পক্ষে ভোট আনা যাবে না।”অর্থাৎ নেতাকর্মীদের দাবি-দলের নীতিনির্ধারকদের উচিত তৃণমূলের চাওয়া শুনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।কারণ বর্তমান সময় শুধু নির্বাচনের সময় নয়-এটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সময়, দলের সংকট থেকে উত্তরণের সময়।
জনপ্রিয়তার বাস্তব মাপকাঠি:মানুষের ঘরে ঘরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা গোটা এলাকায় সরাসরি মাঠ জরিপ করলে দেখা যায়-মানুষের মধ্যে কাজী মফিজুর রহমানকে নিয়ে- আস্থা,সমর্থন,ভালোবাসা,এবং নিরাপত্তার অনুভূতি বেশ দৃশ্যমান।একজন ব্যবসায়ী বলেন,“যেকোনো বিপদে ফোন দিলেই কাজী ভাই হাজির। এই মানুষের জন্য আমরা ভোট চাইতে পারব গর্ব করে।”একজন বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা বলেন,“তিনি সম্মান করেন,শহীদ পরিবারকে খোঁজ নেন।নেতৃত্ব এমনই হয়। তাকে ধানের শীষ দিলে নিশ্চয় জয় আসবে।”
জনগণের ভাষ্য-এখনই সময় ঘোষণা দেওয়ার
সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আসনটি এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিএনপি আবারো শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবে। ভুল সিদ্ধান্ত নিলে আন্দোলন-নির্বাচন-দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।এলাকাবাসীর অভিমত তাই স্পষ্ট:“সেনবাগ-সোনাইমুড়ীর মানুষ পরিবর্তন চায়। আর সেই পরিবর্তনের প্রার্থী-আলহাজ্ব কাজী মো: মফিজুর রহমান।”স্থানীয়দের ভাষায়-“ধানের শীষের জন্য সঠিক চাল বাছাই করা জরুরি। আর সেই চাল এখন কাজী মফিজুর রহমান।”এটি আর কোনো গোপন বিষয় নয়-এটি এখন তীব্র জনমত,এটি মাঠের বাস্তবতা,এটি সময়ের দাবি,এবং এটি আসন্ন বিজয়ের পূর্বশর্ত।
নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ;জেলা বিএনপির সদস্য বিশিষ্ট সমাজসেবক আবদুল মান্নান দলীয় অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ।
অনলাইনে পড়ুন:www.thenabajagaran.com





