নোয়াখালী-২ সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বারগাঁও-অম্বরনগর-নাটেশ্বর ইউনিয়নে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

তৃণমূলের একক দাবি-ধানের শীষে নতুন প্রার্থী চাই

নবজাগরণ নোয়াখালী ব্যুরো:
নোয়াখালী-২ সেনবাগ-সোনাইমুড়ী (আংশিক) আসনে বিএনপির তৃণমূল নেতৃত্ব ও স্থানীয় ভোটারদের মাঝে বড় ধরনের রাজনৈতিক নবজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের স্থানীয় নেতা ও জনসেবামুখী ব্যক্তিত্ব সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজী মো. মফিজুর রহমান এবং জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল মান্নান এর উদ্যোগে ৪নং বারগাঁও, ৫নং অম্বরনগর ও ৬নং নাটেশ্বর ইউনিয়নে আয়োজিত কয়েকটি আলোচনা সভায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এক কণ্ঠে জানিয়ে দেন-এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়নে নতুন প্রার্থী চাই;জনগণের গ্রহণযোগ্যতা যার আছে তাকেই মনোনীত করতে হবে।তারা আরও বলেন,বিগত ৩০ বছর এক ব্যক্তির নেতৃত্বে রাজনীতি চলেছে-এবার পরিবর্তন চাই।

সভায় উপস্থিত ছিলেন:সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল মান্নান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-সেনবাগ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ইউনিয়ন বিএনপি,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দল,ছাত্রদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী স্থানীয় তরুণ ভোটার, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিগণ বারগাঁও-অম্বরনগর-নাটেশ্বর-এই তিন ইউনিয়নের জনস্রোতে পুরো কর্মসূচি রূপ নেয় ছোটখাটো গণসমাবেশে।

তৃণমূলে কেন জোরালো হলো‘নতুন প্রার্থী’ দাবি?
সভায় বক্তারা বলেন-নোয়াখালী-২ আসনে দীর্ঘদিন ধরে একই ধাঁচের কেন্দ্রীয় চাপ দেখে তৃণমূল ক্ষুব্ধ।৩০ বছর ধরে একই ব্যক্তির নেতৃত্ব-এবার আর গ্রহণযোগ্য নয়।জনগণের আস্থা যাদের দিকে ঝুঁকে আছে, তাদের বাদ দিয়েআরোপিত প্রার্থী দিলে নির্বাচনী মাঠ ক্ষতির মুখে পড়বে।আলহাজ্ব কাজী মো. মফিজুর রহমানের জনসেবামুখী কর্মপ্রচার, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ও সাংগঠনিক অবদান-সব মিলিয়ে তৃণমূল তাকে স্বাভাবিক প্রার্থী” হিসেবে দেখছে।একজন বক্তা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন-ধানের শীষে বিজয় ফেরাতে চাইলে কেন্দ্রকে তৃণমূলের কথা শুনতেই হবে।

আবদুল মান্নানের বক্তব্য-এই দাবি শুধু সমর্থকদের নয়, সময়েরও দাবি’সভায় জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল মান্নান বলেন-বিএনপি তৃণমূলনির্ভর দল। আমরা চাই এমন প্রার্থী, যিনি মাঠে জনগণের সঙ্গে থাকেন, যাকে মানুষ নিজের মানুষ মনে করে। নোয়াখালী-২ এ যে নেতাকে নিয়ে জনমত উত্তাল, তাকেই মনোনয়ন দিলে ধানের শীষ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে।তিনি আরও বলেন-তৃণমূলের দাবি নেতিবাচক কিছু নয়-এটি পরিবর্তনের ইতিবাচক ডাক, সংগঠনকে শক্তিশালী করার ডাক।

আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য-‘মাঠের বাস্তবতা বদলে গেছে’বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন-এবারের নির্বাচনে আর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না পুরোনো মাপকাঠিতে। মাঠের বাস্তবতা পুরোপুরি বদলে গেছে। তৃণমূল যাকে চায় তাকে গুরুত্ব না দিলে নির্বাচনী ফল বিপর্যয়ের দিকে যাবে।জনগণ ইতোমধ্যে স্পষ্ট ভোটের বার্তা দিয়ে দিয়েছে।তিনি কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে দাবি জানান-সেনবাগ-সোনাইমুড়ীর জনগণের এই অভিন্ন মতামত জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনায় নিতে হবে।

মাঠের গণজোয়ার-কার পক্ষে?সভাস্থলে আগত নেতাকর্মীদের ঢল,স্লোগান, মিছিল ও বারবার ধ্বনিত হওয়া ‘পরিবর্তন চাই’স্লোগান স্পষ্ট করে দিয়েছে-নোয়াখালী-২ এ তৃণমূলের একটাই দাবি-ধানের শীষে নতুন প্রার্থী, মাঠের মানুষের নেতা।অন্যদিকে সাধারণ অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন-এই অঞ্চলে বিএনপি পুনরুজ্জীবনের মোক্ষম সময় এখন।সঠিক প্রার্থী দিলে শুধু জয় নয়,বড় ব্যবধানে জয় সম্ভব।

সমাবেশের রাজনৈতিক তাৎপর্য: নোয়াখালী-২ এ কি বড় পালাবদল আসছে?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে-এই তৃণমূল সমাবেশ বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।নোয়াখালী-২ এর স্থানীয় জনমত এখন আগের চেয়ে অনেক স্পষ্ট, সুসংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ।কেন্দ্র যদি তৃণমূলের দাবি উপেক্ষা করে, মাঠে বিভক্তি ও হতাশার ঝুঁকি বাড়বে।আর তৃণমূলের পছন্দকৃত প্রার্থী মনোনয়ন পেলে এই আসনটি বিএনপির জন্য “সহজ জয়-এ রূপ নিতে পারে।সভা শেষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত:ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবশ্যই নোয়াখালী-২ এ নতুন প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে।তৃণমূলের ভাষায়-জনগণের দাবি এখন অপরিহার্য; প্রবীণ-নবীনের অভিন্ন সিদ্ধান্ত-পরিবর্তন চাই।

অনলাইনে পড়ুন:www.thenabajagaran.com