কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে যা ঘটেছে,তা কোনো ভুল অপারেশন নয়-এটা পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় অপরাধ।এটা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার নয়-এটা পুলিশ নামের ছায়ায় গড়ে ওঠা একটি অপরাধ সিন্ডিকেটের নগ্ন প্রকাশ।একজন অটোচালক-জাফর আলম।অস্ত্র নয়,জীবিকা যার পুঁজি।আইন নয়,অন্ন যার চাওয়া।তাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে-সেটাও আবার সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।এরপরও যদি রাষ্ট্র নড়ে না-তাহলে প্রশ্ন উঠে,রাষ্ট্র আসলে কাদের সুরক্ষা দিচ্ছে?এটা সিনেমা নয়-এটা রাষ্ট্রের ভেতরের ষড়যন্ত্র ঘটনার বিবরণ শুনলে মনে হয় কোনো অপরাধ-থ্রিলার।কিন্তু পার্থক্য একটাই-এখানে খলনায়করা ইউনিফর্ম পরে।যাত্রীবেশে অটো ভাড়া পানি কেনার অজুহাতে চালককে নামানো ব্যাগ থেকে অস্ত্র রেখে দেওয়া দূরে গিয়ে ওত পেতে থাকা ফেরার সঙ্গে সঙ্গে “নাটকীয় অভিযান”অস্ত্র হাতে ধরিয়ে ফটোশুট এই অপারেশনের নাম যদি পুলিশি অভিযান হয়-তাহলে ডাকাতি কী?ওসি প্রদীপের ভূত:কক্সবাজার কেন বারবার কলঙ্কের নাম?
টেকনাফ থেকে ঈদগাঁও-কক্সবাজার পুলিশ মানেই কেন প্রদীপ-সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি?একই চরিত্র,একই পদ্ধতি,একই অভিযোগ-খুনের আসামি ছেড়ে দেওয়া ইয়াবা কারবারির কাছ থেকে চাঁদা শিশু ও নিরীহ মানুষকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো পার্থক্য একটাই-এবার সিসিটিভি আছে।নইলে এটাও ধামাচাপা পড়ে যেত।বখাটের পক্ষে রাষ্ট্র, ভুক্তভোগীর বিপক্ষে পুলিশ সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো-এই অস্ত্র-নাটক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ভুক্তভোগী পরিবার।একজন বখাটে গ্রেপ্তারও হয়েছিল।এরপরই শুরু হয়-হুমকি চাপ ষড়যন্ত্র আর শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের হাতদিয়ে প্রতিশোধ আজ যদি ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করাই অপরাধ হয়,তাহলে এই রাষ্ট্র কার?শিশুর কান্না রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য লীজা মনির কান্না কোনো আবেগ নয়-এটা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার দলিল।যে দেশে-শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না রাতে ঘর ছাড়তে হয় আর পুলিশ উল্টো নির্যাতনকারীর পক্ষে দাঁড়ায় সে দেশে আইন আছে,কিন্তু ন্যায় নেই।এসআই বদিউল আলম:ব্যক্তি নয়, একটি সিস্টেম এখানে শুধু একজন এসআইয়ের নাম বললে ভুল হবে।কারণ বদিউল আলম ব্যক্তি নয়-একটি সিস্টেমের প্রতিনিধি।
যে সিস্টেমে-অভিযোগ থাকলেও বদলি হয় ক্লোজ হলেও ফেরে প্রমাণ না থাকায় পার পায় আর শেষে নিরীহ মানুষ জেলে যায় এই সিস্টেম ভাঙা না গেলে আজ জাফর,কাল তুমি।রাষ্ট্র কি এখনো নাটক করবে?অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেছেন-তিনি নিশ্চিত,জাফর আলমকে ফাঁসানো হয়েছে।এই স্বীকারোক্তির পরও যদি-প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত না হয় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হয় জাফর আলম মুক্তি না পান তাহলে বুঝতে হবে-রাষ্ট্র সত্য জানে,কিন্তু মানতে চায় না।দাবি স্পষ্ট,সময় এখনই এটা কোনো মানবিক অনুরোধ নয়-এটা রাষ্ট্রীয় দাবি।স্বাধীন ও প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত কমিশন গঠন এসআই বদিউল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার ভুক্তভোগী জাফর আলমের অবিলম্বে মুক্তি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ কক্সবাজার পুলিশ কাঠামোর পূর্ণ সংস্কার আইনের নামে অপরাধ করলে আইনের হাতেই বিচার হতে হবে।
ইউনিফর্ম কাউকে অপরাধমুক্ত করে না পুলিশ জনগণের সেবক-দালালদের পাহারাদার নয়।যে রাষ্ট্র অটোচালককে রক্ষা করতে পারে না,সে রাষ্ট্র বড় বড় বক্তৃতা দিয়ে নিজেকে ধোয়া দিতে পারে না।আজ জাফরের পাশে না দাঁড়ালে কাল রাষ্ট্র দাঁড়াবে না তোমার পাশে।
মো:আবু তাহের পাটোয়ারী
সম্পাদক: নবজাগরণ
অনলাইনে পড়ুন: www.thenabajagaran.com




