মামলা ও লিগ্যাল নোটিশ উপেক্ষা করে ক্ষমতা ভাগাভাগির নাটক-গঠনতন্ত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন অবৈধ ঘোষণার জোরালো দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি:
আদালতে বিচারাধীন মামলা,জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং লিগ্যাল নোটিশ-সবকিছু প্রকাশ্যে উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত হলো বহুল আলোচিত ও তীব্র বিতর্কিত নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন। গঠনতন্ত্রের একের পর এক সুস্পষ্ট ধারা লঙ্ঘন,বেআইনি নির্বাচন কমিশন গঠন,প্রশ্নবিদ্ধ ভোটার তালিকা ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আমলে না নিয়েই গতকাল (৩০ ডিসেম্বর) এই তথাকথিত নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। ফলে নবীগঞ্জের প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান মামলা ও উত্থাপিত অভিযোগ নিষ্পত্তি না করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন আয়োজন করা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা। পূর্বপরিকল্পিতভাবে গঠিত একটি পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি ‘ক্ষমতা বণ্টনের নাটক’ হিসেবে সাজানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সমান ভোটে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে‘সমঝোতার’নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কথিত এই নির্বাচনে সভাপতি পদে দুই প্রার্থী-এমএ বাছিত ও এসআর চৌধুরী সেলিম-সমান ২১ ভোট করে পান। একইভাবে কোষাধ্যক্ষ পদে শাহরিয়া আহমেদ শাওন ও সাগর আহমেদ সমান ২১ ভোট লাভ করেন। অথচ নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের ০৫ ধারা (ঝ) অনুযায়ী সমান ভোট হলে একই দিনে পুনর্নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কিন্তু সেই বিধান প্রকাশ্যে উপেক্ষা করে‘সমঝোতা’র নামে ছয় মাস করে দায়িত্ব ভাগাভাগির ঘোষণা দেওয়া হয়। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও আইনজ্ঞদের মতে,এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্রবিরোধী,বেআইনি এবং প্রেসক্লাবের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে করে নির্বাচনের বৈধতা পুরোপুরি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

আগেই সতর্কবার্তা ও নির্বাচন বাতিলের আবেদন
উল্লেখ্য, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন,বেআইনি নির্বাচন কমিশন গঠন, অবৈধ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে নির্বাচন বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক আশাহীদ আলী আশা।তিনি অভিযোগ করেন
,অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে কোণঠাসা করেছে। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বারবার বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।বিতর্কিত ভোটার তালিকা ও গুরুতর অভিযোগ আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়,গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে অবৈধ ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে।এমনকি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত এবং কারাবন্দি ব্যক্তিদেরও ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তোলা হয়েছে-যা একটি সাংবাদিক সংগঠনের জন্য চরম উদ্বেগজনক ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে গত ১৫ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও রহস্যজনকভাবে কোনো জবাব বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আশাহীদ আলী আশা আরও অভিযোগ করেন,তার ওপর সংঘটিত হামলার বিচার আজও হয়নি; বরং আপোষ ও প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের রক্ষা করা হয়েছে।প্রশাসনিক নজরদারির অনুপস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো,এত বিতর্ক ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি,সুশীল সমাজ কিংবা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কোনো দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না। ফলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও সন্দেহজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
অবৈধ নির্বাচনের দায় এড়ানো যাবে না আইন ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এবং লিগ্যাল নোটিশ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত এই তথাকথিত নির্বাচন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবকে এখন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বচ্ছতার চরম সংকটের প্রতীকে পরিণত করেছে।সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা মনে করছেন,এই নির্বাচন অবিলম্বে অবৈধ ঘোষণা করে প্রশাসনিক ও আইনি তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনাই একমাত্র পথ। অন্যথায় একটি ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন চিরতরে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে-যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।